​উত্তরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মাদারগঞ্জে ছাগল, পাঠা ও হাঁস-মুরগি বিতরণ

​ শাহিন আলম হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার

উত্তরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সমন্বিত পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি বিতরণ কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল, পাঠা এবং উন্নত জাতের হাঁস-মুরগি বিতরণ করা হচ্ছে।
​পানি সম্পদ বিভাগের মহাপরিচালক কৃষিবিদ শাহজামাল খান তুহিন এবং মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সার্বিক সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজুর কাদের বাবুল খান এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
​প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১নং চরপাকেরদহ, ২নং কড়ইচূড়া, ৪নং বালিজুড়ী ও ৫নং জোড়খালী ইউনিয়নের মোট ১০৩ জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে দুটি করে মোট ২০৬টি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল ও পাঠা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী ২৫ জন উপকারভোগীকে পাঠা দেওয়া হয়। বিতরণকৃত ছাগল ও পাঠাগুলোর বয়স পাঁচ থেকে ছয় মাস।
​এছাড়া, প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ১৯ জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে ১৫টি করে উন্নত জাতের হাঁস ও মুরগি বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণকৃত চার মাস বয়সী পাখিদের মধ্যে হাঁস ছিল পিকিং ও জিমবিং জাতের এবং মুরগি ছিল কর্ক জাতের। গত ১২ জুন শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ ২৯ জুন সকালে ১নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের উপকারভোগীদের মাঝে হাঁস ও মুরগি বিতরণ করা হয়।
​এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিতরণ করা ছাগল, পাঠা এবং হাঁস-মুরগিগুলো সম্পূর্ণ সরকারি খামার এবং অনুমোদিত ঠিকাদারের মাধ্যমে মান নিশ্চিত করে সংগ্রহ করা হয়েছে। সুফলভোগীদের সুবিধার্থে আমরা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিতে প্রস্তুত। কোনো প্রাণী অসুস্থ বা রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।”
​তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রকল্প প্রান্তিক পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি, নতুন আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সর্বোপরি তাদের আর্থ-সামাজিক জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *