জামালপুরে বোনের প্রেমে বাধা !ভাইকে হত্যা করল প্রেমিক

মো. আলমগীর, জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে বোনের সঙ্গে মামাতো ভাইয়ের প্রেমে বাধা দেওয়ায় প্রেমিকার ভাইকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিল প্রেমিক। ঘটনার আক্রোশে প্রেমিকার ভাই আল আমিনকে রশি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর চাকু দিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রেমিক শুভ। এ ঘটনায় প্রেমিক শুভ (১৯) ও তার সহযোগী সম্রাট (২০) কে গ্রেফতার করেছে জামালপুর পিবিআই।
গ্রেফতারকৃত শুভ পৌরসভার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকার উজ্জ্বল মিয়ার ছেলে এবং সম্রাট একই এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে।

বুধবার (২০মে) বিকেলে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

লিখিত বক্তব্যে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, ১৮ মে জামালপুর-শেরপুর সীমান্তের বাগলগড় এলাকায় একটি ক্ষেত থেকে আল আমিনের মাথা বিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর শেরপুর সদর থানায় অজ্ঞাত নামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত আল-আমিনের বাবা সাইফুল ইসলাম। ওই মামলার সূত্র ধরে ছায়াতদন্তে নামে পিবিআই। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম থেকে হত্যাকারী প্রেমিক শুভ ও সহযোগী সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। শুভর দেওয়া তথ্যে তার সহযোগী সম্রাটকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

তিনি আরও জানান, আল-আমিনের ডিভোর্সী বোনের সঙ্গে প্রেম করতো তার মামাতো ভাই শুভ। এ ঘটনায় উভয় পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্যের পাশাপাশি চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আল-আমিন ও শুভর বোনের সাথে প্রেম করার প্রস্তাব দেয় শুভর কাছে, যাতে শুভ তার বোনের সাথে সম্পর্ক না রাখে। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল-আমিনের কাছে ১ লাখ টাকা চায়। আল-আমিন এর বিনিময়ে শুভর বোনকে কাছে পেতে প্রস্তাব দিলে শুভ অপমানের বদলা নিতে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনানুযায়ী আসামি শুভ তার সহযোগী আসামি সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তাতে আসামি সম্রাট রাজি হয়। অতঃপর আসামি শুভ তার পরিকল্পনায় গত ১৩ মে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কৌশলে আল-আমিনকে তার বন্ধু শান্তর মোটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় এবং আসামি শুভ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বে তার বাড়ি হতে একটি ধারালো চাকু নিয়ে যায়। ওৎ সময়ে কৌশলে আসামি শুভ আসামি সম্রাটকে ঘটনাস্থলের দিকে যেতে বলে। ঘটনাস্থলে তারা ৩ জন পৌঁছার পর আল-আমিন অমনোযোগী হয়ে মোবাইল চালাতে থাকায় সেই সুযোগে আসামি শুভ ঘটনাস্থলের পাশে থাকা লাইলনের চিকন দড়ি দিয়ে পিছন থেকে আল-আমিনকে গলায় পেঁচিয়ে ধরে। এতে আল-আমিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে আসামি সম্রাট আল-আমিনের মাথা ধরে রাখে। তখন আসামি শুভ তার প্যান্টের পকেটে থাকা চাকু দিয়ে আল-আমিনের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। আসামি শুভর তথ্য মতে, হত্যাকাণ্ডে আল-আমিনকে ঘটনাস্থলে নেওয়ায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি জব্দ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *