
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার এক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৯ মে) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর থেকে গৃহকর্তা পলাতক রয়েছেন। তবে পালিয়ে যাওয়ার আগে তিনি তার ভাইকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
‘সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর পলাতক গৃহকর্তা তার ভাইকে ফোন করেন। ফোনে তিনি বলেন, “সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না।” এই ফোনের পর থেকেই তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গৃহকর্তার ভাইয়ের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত এবং গৃহকর্তা নিজেই এতে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন।
ঘটনার বিবরণ:
পুলিশ জানায়, আজ শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। প্রত্যেকের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযান ও তদন্ত:
গাজীপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গৃহকর্তার এই স্বীকারোক্তিমূলক ফোন কলটিকে তারা গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম ও ডিবি পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক আলামতে মনে হচ্ছে এটি পারিবারিক কলহের চরম পরিণতি। গৃহকর্তার ভাইকে দেওয়া তথ্যটি আমরা যাচাই করছি এবং তাকে ট্র্যাক করার চেষ্টা চলছে।”
এলাকায় আতঙ্ক ও শোক:
এই নৃংশস হত্যাকাণ্ডের খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উৎসুক জনতা ওই বাড়ির সামনে ভিড় করছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছেে।