​টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকারের ‘বড় ভুল’ ছিল: সাকিব আল হাসান

​বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পোস্টার বয় ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরকারের একটি ঐতিহাসিক ‘ব্লান্ডার’ বা বড় ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। দীর্ঘদিন নিশ্চুপ থাকার পর সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
​মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম’ নামক একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাকিব। সেখানে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করাটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা একটি ক্রিকেট পাগল জাতি, আর আমাদের ভক্তরা বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের জার্সি দেখতে না পারায় অত্যন্ত হতাশ হয়েছেন। সরকার কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা আমার বোধগম্য নয়, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই একটি বড় ভুল ছিল।”
​২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরাপত্তা ইস্যুতে ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। বিসিবি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আবেদন করলেও আইসিসি তা গ্রহণ করেনি। ফলে ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কোনো বিশ্বকাপ ছাড়াই টুর্নামেন্ট শেষ হতে দেখেছে, যেখানে বাংলাদেশের পরিবর্তে খেলার সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।
​বিসিবি ও বিসিসিআই সম্পর্কের অবনতি
​সাকিব তার বক্তব্যে আরও ইঙ্গিত দেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে নেওয়া এবং দীর্ঘ সময় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ক্রিকেটীয় সম্পর্কের এই দূরত্ব দূর করা জরুরি। তবে আমি আশাবাদী, আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে আবারও দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করবে।”
​ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড়
​সাকিবের এই মন্তব্য প্রকাশের পর থেকেই দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সাকিবের এই সাহসিকতার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ কেউ একে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও বিশ্লেষণ করছেন। দীর্ঘকাল দেশের বাইরে থাকা সাকিবের এই মন্তব্য জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *