​হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুদ্ধের দামামা: ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি, তেহরানের পাল্টা আঘাতের হুমকি

​কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চরম সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন সংঘাতের কালো মেঘে ঢাকা।
​১. ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ও ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
​গত রবিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom) নামক একটি বিশেষ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো গত ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া শত শত বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে বের করে আনা।
​সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে বলেন:
​”যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে কোনো মার্কিন জাহাজ বা এই অভিযানে অংশ নেওয়া কোনো যানে হামলা চালায়, তবে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে (Blown off the face of the Earth)।”
​২. রণক্ষেত্র হরমুজ প্রণালী: সম্মুখ সমরের খবর
​মঙ্গলবার পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস ট্রুক্সটান (USS Truxtun) এবং ইউএসএস মেসন (USS Mason)—আটকা পড়া জাহাজগুলোকে নিয়ে প্রণালী পার হওয়ার সময় ইরানি বাহিনীর প্রবল বাধার মুখে পড়ে।
​মার্কিন দাবি: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তারা ইরানের ৬টি ছোট সামরিক নৌকা ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিত করেছে।
​ইরানের দাবি: তেহরান মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় ৫ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা অন্তত একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
​৩. সংকটের নেপথ্যে: ফেব্রুয়ারি থেকে চলা অস্থিরতা
​উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার পর থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
​বর্তমানে এই অঞ্চলে প্রায় ৮৫০টি জাহাজ এবং ২০,০০০ ক্রু আটকা পড়ে আছেন।
​বিশ্ববাজারে মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০% এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে তেলের দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
​৪. তেহরানের কড়া অবস্থান
​ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি জানিয়েছেন, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যেকোনো ‘আগ্রাসী’ শক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে ইরান দ্বিতীয়বার ভাববে না।
​৫. আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ
​পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও, বর্তমানের এই পাল্টাপাল্টি হুমকি তা ভেস্তে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এটি একটি পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নেবে।
​তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান এবং সেন্টকম প্রেস রিলিজ (৫ মে, ২০২৬)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *