সীমান্তে সুবাতাস: পর্যটন ভিসা নিয়ে সুখবর দিচ্ছে ঢাকা ও দিল্লি

​দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে দুই দেশ। বিগত কয়েক মাসের কূটনৈতিক শিথিলতা কাটিয়ে মে মাসের শুরু থেকেই ভিসা প্রক্রিয়ায় গতি ফেরার স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে।
​পুরোদমে সচল বাংলাদেশের মিশনগুলো
​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সবকটি ভিসা কেন্দ্র—নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই এবং চেন্নাই এখন শতভাগ সচল। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটনসহ সব ক্যাটাগরির ভিসা উন্মুক্ত করে দিয়েছে ঢাকা। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত দুই মাসেই ভারতীয় নাগরিকদের প্রায় ১৩ হাজার ভিসা প্রদান করেছে বাংলাদেশ মিশনগুলো। এতে করে দুই দেশের মানুষের যাতায়াতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হয়েছে।
​ভারতের উদ্যোগ: ধাপে ধাপে স্বাভাবিকীকরণ
​অন্যদিকে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত বছর থেকে বিশেষ করে ট্যুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে যে কড়াকড়ি বা সীমাবদ্ধতা ছিল, তা ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা প্রদানের হার প্রাক-সংকটকালীন অবস্থায় ফিরে যাবে।
​ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের পর ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুত অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে চিকিৎসা ও জরুরি পারিবারিক ভিসা অগ্রাধিকার পেলেও, ট্যুরিস্ট ভিসার স্লট সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।
​পর্যটন খাতে আশার আলো
​ভারতে আসা বিদেশি পর্যটকদের প্রায় ২০ শতাংশই বাংলাদেশ থেকে যায়। দীর্ঘ সময় পর্যটন ভিসা সীমিত থাকায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরার পর্যটন ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছিল। এখন ভিসা স্বাভাবিক হওয়ার খবরে দুই দেশের ট্রাভেল এজেন্ট ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে।
​বিশেষজ্ঞের অভিমত
​কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া কেবল ভ্রমণের বিষয় নয়, এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যাতায়াত স্বাভাবিক হলে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
​সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই মে মাসে এসে দুই দেশের ভিসা জটিলতার অবসান ঘটছে বলে আশা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সাধারণ পর্যটকরা কোনো বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *