ভারত-রুশ সামরিক মৈত্রীর নতুন দিগন্ত: স্বাক্ষরিত হলো ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা ও লজিস্টিক চুক্তি।

​ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার সফল সমাপ্তি শেষে উভয় দেশ একটি শক্তিশালী সামরিক সহযোগিতা ও লজিস্টিক বিনিময় চুক্তিতে (RELOS) উপনীত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
​চুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
​পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা: ভারত ও রাশিয়া এখন থেকে একে অপরের সামরিক ঘাঁটি, বন্দর এবং আকাশসীমা জ্বালানি সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করতে পারবে।
​আর্কটিক অঞ্চলে প্রবেশাধিকার: এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলের ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের বিশেষ সুবিধা পাবে।
​সীমিত সেনা মোতায়েন: দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় দেশ প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা ও যুদ্ধজাহাজ একে অপরের সামরিক স্থাপনায় মোতায়েন রাখতে পারবে।
​উন্নত প্রযুক্তি ও অস্ত্র সরবরাহ: বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘টুঙ্গুস্কা’ (Tunguska) সহ আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়েও এই চুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
​কৌশলগত গুরুত্ব:
​প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের টানাপোড়েনের মাঝে এই চুক্তি ভারতের জন্য যেমন রাশিয়ার বিশ্বস্ত বন্ধুত্ব নিশ্চিত করেছে, তেমনি রাশিয়ার জন্যও এশিয়ায় তার প্রভাব ধরে রাখার পথ প্রশস্ত করেছে। ৫ বছর মেয়াদী এই চুক্তিটি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে কর্মক্ষমতা ও সমন্বয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *