
গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সপক্ষে বিদেশে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ২০৮ জন প্রবাসী কর্মীকে কেন ২৫ লাখ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৪ মে) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রুল
আদালত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি এই রুল জারি করেন। রুলে ২০৮ জন প্রবাসীর প্রত্যেকের পরিবারকে কেন ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এবং তাদের পুনর্বাসনে কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ৪ সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তীকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ করেন। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ভঙ্গের দায়ে অনেক প্রবাসীকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ উদ্যোগে তাদের অনেকের সাজা মওকুফ করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
রিট আবেদনকারীর বক্তব্য
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, “এই প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে এবং ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের ফলে তাদের কর্মসংস্থান নষ্ট হয়েছে এবং তারা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের এই বীরত্বগাথাকে সম্মান জানানো এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।”
প্রবাসীদের বর্তমান অবস্থা
দেশে ফিরে আসা এই ২০৮ জন প্রবাসীর অনেকেই বর্তমানে বেকার জীবন যাপন করছেন। অনেকে বিদেশে তাদের সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় ফিরেছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে আদালতকে জানানো হয়।