সিলেটে ট্রাক-পিকআপ ভয়াবহ সংঘর্ষ: স্তব্ধ জনপদ, প্রাণ হারালেন ৮ নির্মাণ শ্রমিক

​সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮ জন নির্মাণ শ্রমিক। আজ ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নাজিরবাজার এলাকায় বালুবোঝাই একটি ট্রাক ও শ্রমিকবাহী পিকআপ ভ্যানের মধ্যে এই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
​দুর্ঘটনার বিবরণ
​প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোর আনুমানিক সাড় ৫টার দিকে সিলেট শহর থেকে প্রায় ২০-২৫ জন নির্মাণ শ্রমিক একটি পিকআপ ভ্যানে করে ওসমানীনগরের দিকে যাচ্ছিলেন। নাজিরবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বালুবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যানটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপ ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।
​হতাহতের তথ্য
​ঘটনাস্থলেই ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে আহতদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে তারা সবাই সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
​”আমরা বিকট শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। এসে দেখি চারদিকে মানুষের হাহাকার। অনেকেই গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ছিলেন। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আমরা কয়েকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করি।”
— আবদুল হক, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী
​উদ্ধার তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
​সিলেট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তাদের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া পিকআপের ভেতর থেকে মরদেহগুলো বের করে আনা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
​প্রশাসনের বক্তব্য
​সিলেট জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
​দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ
​প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে:
​ভোরবেলার ঘন কুয়াশা বা চালকের অসতর্কতা।
​ট্রাকটির মাত্রাতিরিক্ত গতি।
​পিকআপ ভ্যানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন।
​এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের এই বিপজ্জনক মোড়গুলোতে গতিরোধক এবং সিগন্যালের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *