বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার হবে: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

আলামিন,মাগুরা প্রতিনিধি

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুসরণ করেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার হবে। দেশে নিরপেক্ষ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে সমিতির হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন,
নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, যাতে জনগণ ন্যায়বিচার পেতে পারে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৪৫ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

পাশাপাশি বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবীকে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, “একজন দক্ষ আইনজীবী দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই তাদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে সরকার কার্যকর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।”

তিনি আরও বলেন, তনু হত্যা মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক। পাশাপাশি অতীতে বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্গঠনের কাজও চলমান রয়েছে।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বির আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর এবং অ্যাডভোকেট আহমেদ হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *