মুজাহিদুল ইসলাম,নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৭ নম্বর পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের চান্দু মার্কেটে অবস্থিত মঞ্জু চেয়ারম্যান জামে মসজিদের পুকুর দখলমুক্ত করে মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটি, মুসল্লি ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টায় চান্দু মার্কেট এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে মসজিদের পুকুরটি প্রভাব খাটিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে।
তারা দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম চেয়ারম্যানের ভাগ্নে জামাই এবং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব আনোয়ার হোসেন হেলাল পুকুরটি দখলে নেন।
বক্তাদের অভিযোগ, পরে আনোয়ার হোসেন হেলাল পুকুরটি শের আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে লিজ দেন। এরপর শের আলী ও তার সহযোগী সোহাগ সেখানে মাছ চাষ করে আসছেন। মাছের খাদ্য ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে মুসল্লিরা দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের পানি অজু বা গোসলের কাজে ব্যবহার করতে পারেননি বলেও দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, পুকুরটি উদ্ধারের জন্য তারা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মসজিদ কমিটি পুকুরটির দখল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, ক্যাশিয়ার ইউছুপ জামাল, ইমাম আব্দুল আলিম, স্থানীয় বাসিন্দা মো. নোমানসহ অন্যান্যরা। তারা অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন হেলাল, শের আলী ও সোহাগের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মসজিদের পুকুরটি দ্রুত দখলমুক্ত করে মসজিদ কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, “মসজিদের কোনো পুকুর আমি দখল করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ীই সবকিছু হবে।”
অন্য অভিযুক্ত শের আলী বলেন, “আমি কোনো পুকুর জোরপূর্বক দখল করিনি। বৈধ চুক্তির ভিত্তিতেই পুকুরে মাছ চাষ করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”