মাদারগঞ্জে আমানতের টাকা ফেরত দাবিতে অফিস বন্ধ’ এমপি,ইউএনও’র বিরুদ্ধে স্লোগান

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ,মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমিতিতে রাখা ত্রিশ হাজার গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা আমানত ফেরত এর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাদারগঞ্জে সরকারি অফিস বন্ধ করে গ্রাহকদের অবস্থান । সোমবার দুপুরে উপজেলা হাওয়ায় রোড় থেকে উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে সমিতির হাজারো গ্রাহক। মঙ্গলবার দুপুর পর গ্রাহকরা স্থানীয় এমপি, ইউএনও এবং বিএনপি’র বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় ইউএনওর গালে গালে জুতা মারো তালে তালে, এমপি’র গালে গালে জুতা মারো তালে তালে, বিএনপির গালে গালে জুতা মারো তালে তালে । এরপর থেকে উপজেলা পরিষদের সেবা বিঘ্নিত এবং আতংকে ছিল কর্মকর্তা/কর্মচারিরা। আল আকাবা, শতদল- সব সালারা চোরের দল সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন সমিতির হাজারো গ্রাহকেরা। নিরাপত্তার স্বার্থে ৪ তলা ভবনের কেচিগেট তালা লাগিয়ে দেয় অফিসের কর্মচারীরা। সোমবার ও মঙ্গলবার টানা দুদিন সরকারি অফিস গুলো বন্ধ থাকে ব্যহত হয় সেবা কার্যক্রম। ক্ষুদ্ধ হয়ে ফিরে যাচ্ছে বিভিন্ন অফিসে আসা সেবা গ্রাহকরা।
কেচিগেট ঘেষে অবস্থান নেয় সমিতির অর্ধ শতাধিক গ্রাহকেরা। এ সময় সেবা নিতে আসা একজন সেবা গ্রাহকের সাথে সমিতির গ্রাহকদের তর্কবির্তক হয়। এক পর্যায়ে মারধোড় ও হেনস্থার শিকার হয় সেবা গ্রাহক। বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে গ্রাহকদের সাথে কথা বলেন ইউএনও।
টাকা উদ্ধার কমিটির নেতাদের সাথে নিয়ে প্রায় এক ঘন্টা বৈঠক করে ইউএনও।
টাকা উদ্ধার আন্দোলন কমিটির সংগঠক মাহবুব আলম রতন বলেন- আমরা আগামীকাল সকালে এসে সমবায় অফিসের প্রত্যেক কে আগে আটকাবো। শুধু অফিস না প্রত্যেককেই আমরা ধরবো কারণ এদের সহযোগিতায় প্রশাসনের যোগসাজশে আমাদের এত গুলো টাকা লুট হয়ে গেছে। এর জন্য দায়ী সমবায় অফিস এবং প্রশাসন। কাজেই আগামীকাল সকাল ৮ টা সাড়ে ৮ টার মধ্যে আসবেন আপনারা ওদের হাজিরা দিতেও দিবো না আমরা তার আগেই আসবেন। আমাদের শত্রু শুধু সমবায় অফিস না প্রতি পদে পদে শত্রু বসে আছে। তবে আমরা শত্রু আর বাড়াতে চাই না, মারামারি ও করতে চাই না। আমরা শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আন্দোলন করে যাবো। আমাদের ইউএনও সাব কথা দিছেন আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটা সু খবর পেয়ে যাবেন। ইউএনও মালিকদের সাথে কথা বলেছেন তারা কথা দিছে আসবেন। আর যদি না আসে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এখানে আমাদের অবস্থান ধর্মঘট দিন প্রতিদিন বাড়াতে হবে আরো দুর্বার হবে।
টাকা উদ্ধার আন্দোলন কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক শিবলুল বারী রাজু তার বক্তব্যে বলেন – এই লড়াইয়ে আপনারা প্রস্তুুত আছেন এটা আমি দেখেছি। এই লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করার জন্য আপনারা যারা উপস্থিত আছেন এবং আমি যতটুকু জানি সাড়ে ৩ টার দিকে আমাদের ইউএনও সাহেব যে ব্যবহার করেছেন। ঠিক সেই মুহুর্তে আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ দাড়িয়ে গিয়ে ছিল যা আমাদের লড়াই চালাইতে হবে। যদি পুলিশ আসে,আরমি আসে,র‍্যাব আসে। যাদের কাছে তিনি ফোন করেছেন তাহলে আমরা যারা উপস্থিত ছিলাম তারাই তো এই লড়াই করমু তাই না। এই কথাটাই আপনাদের জানাচ্ছি আজকে যারা উপস্থিত ছিলেন আর কেউ বাহিরের মানুষ আসুক আর না আসুক কিন্তুু আপনারা এখানে আসবেন এই লড়াইয়ের সাথে অংশগ্রহণ করবেন। এই লড়াই আমাদের কিসের লড়াই টাকা উদ্ধারের লড়াই। আমাদের জীবন বাঁচেনা আমাদের প্রত্যেকটা গ্রাহক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। আমাদের অনেক গ্রাহক তার জীবন এই যে বের হয়ে যায় বের হয়ে যায়। তারপরেও এই লড়াইয়ের সাথে আছে। আমরা এই মানুষ গুলোর জন্য এই লড়াইটা আমরা জাগ্রত রাখবো। টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই টা আমরা চালাবো। আপনারা শান্ত সৃষ্টভাবে বাড়িতে যান। এই লড়াইয়ে হয় আমরা জিতবো নয় মৃত্যু আমাদের। লড়াইয়ে সৈনিক আপনারা আপনাদের সম্মান জানাই। আরেকটা বিষয় জানাতে চাই খবর আসে পুলিশ আসতেছে র‍্যাব,সেনাবাহিনী আসতেছে আমরা বাংলাদেশ কে চ্যালেঞ্জ করতেছি । আমাদের টাকা আদায় না হওয়া পর যদি আমার বুকে গুলি চালায় তাহলে আমরা বাংলাদেশ কে কাপায়ে দেবো।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার বিকালে ইউএনও সমিতির গ্রাহকদের সাথে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজনের সাথে আনুমানিক ১ ঘন্টা যাবৎ বৈঠক করে এবং কয়েক সমিতির মালিকদের সাথে ফোনে কথা বলে গ্রাহকদের বলেন বৃহস্পতিবার এর মধ্যেই আপনাদের সাথে নিয়ে সমিতির মালিকদের সাথে কথা বলে একটা সমাধানে যাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *