মো: শওকত আলী, স্টাফ রিপোর্টার

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) উপজেলা হলরুমে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, মেলান্দহ শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজাদুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল কবির মঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম হাফিজ নাহিন, মেলান্দহ পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ারুল কাদির শ্যামল তালুকদার, বিএনপির সাবেক উপজেলা সদস্যসচিব ও সাংবাদিক নুরুল আলম সিদ্দিকী এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মিস্টার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, মেলান্দহ শাখার সভাপতি মাসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মিস্টার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, মেলান্দহ উপজেলার ২৮টি বিদ্যালয়, ৪টি মাদ্রাসা ও ২টি ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৫১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। এ সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের মা-বাবা, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের করতালির মাধ্যমে ধন্যবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে এখন থেকেই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। আগামী দুই বছর অন্যান্য বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভালো ফলাফল অর্জন করে দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সৎ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা ব্যাহত হবে না উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বাবুল বলেন, কোনো দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে সমস্যায় পড়লে তার পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব তিনি নেবেন।
অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, রজনীগন্ধার স্টিক ও একটি করে বৃক্ষের চারা তুলে দেওয়া হয়। পরে প্রধান অতিথি মঞ্চ থেকে নেমে এলে শিক্ষার্থীরা আনন্দে মেতে ওঠেন এবং তাঁর সঙ্গে সেলফিতে অংশ নেন। এতে পুরো হলরুমে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম হাফিজ নাহিন বলেন, জাতীয়তাবাদী দল ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। তিনি জানান, জামালপুর জেলার সব সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং ঢাকাস্থ জামালপুর সমিতির যৌথ উদ্যোগে জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে যেসব মেধাবী শিক্ষার্থীর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যা হবে, তাদের চিহ্নিত করে আগামী তিন বছর পড়াশোনা অব্যাহত রাখার জন্য ঢাকাস্থ জামালপুর সমিতির পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল কবির মঞ্জু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন হাওলাদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজাদুর রহমান ভূঁইয়াসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।