জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে মারধরে স্ত্রী নিহত, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মো. আলমগীর, জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের বকশীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে মারধরে স্ত্রী নিহতের ঘটনায় আসামি স্বামী হাফিজুল ওরফে আফজলকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাফিজুল বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর গ্রামের মৃত প্রধানের ছেলে।

মামলার রায় সূত্রে জানা গেছে, নিহত হনুফা বেগমের পরিবার ভোলা থেকে ঢাকা এসে সবজির ব্যবসা করতেন।অপরদিকে, বকশীগঞ্জ থেকে ঢাকা গিয়ে একটি কলার আড়তে কাজ করতেন
হাফিজুল। তারা পাশাপাশি দুটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। একপর্যায়ে হনুফা ও হাফিজুলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। দুজনে পালিয়ে বিয়ে করেন। এ বিয়ে মেনে নেন হনুফাদের পরিবার। মেয়ের সুখের জন্য তার পরিবার স্বর্ণের কিছু গয়না, কাপড়-চোপর বানিয়ে দেয়। কিছুদিন পর হনুফার স্বামী তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে হনুফার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ ঘটনার পর ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। টাকাগুলো উল্টাপাল্টা খরচ করে শেষ করে ফেলেন হনুফার স্বামী। পরে আবার ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হলে হনুফাকে গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসেন স্বামী হাফিজুল। একপর্যায়ে যৌতুকের দাবিকৃত টাকা জন্য হনুফার ওপর নির্মমভাবে মারধর করা হয়। বেদম মারধরে ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর হনুফা মারা গেলে খবর পেয়ে লাশ ভোলায় নিয়ে যায় তার পরিবার। পরে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন নিহতের মা আমেনা বেগম।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ফজলুল হক জানান, এই মামলায় নিহতের স্বামী হাফিজুলসহ আসামি ছিল ৫ জন। আদালতে অপর ৪ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হত্যার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় নিহতের স্বামী হাফিজুলকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। একই সঙ্গে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা নিহতের পিতামাতা পাবেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *