রাঙামাটিতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম রাউন্ডের উদ্বোধন, ৮৭ হাজার শিশুকে খাওয়ানো হবে টিকা

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটিতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম রাউন্ডের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকালে রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি এলাকার মানিক লাল দেওয়ানের বাড়িতে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মংক্যছিং, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা খোকন চাকমা, স্বাস্থ্য পরিদর্শক কমল চাকমা এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক কিরণ ধর চাকমা। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় এবার রাঙামাটি জেলায় ৮৬ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলার ১ হাজার ২৯৭টি কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১০ হাজার ৫৩৭ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৭৫ হাজার ৩২৩ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল দেওয়া হবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত এক হাজার ক্যাপসুল মজুত রাখা হয়েছে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ২ হাজার ১৪ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ২৮৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. নুয়েন খীসা বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় নির্ধারিত বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমানো, রাতকানা রোগ প্রতিরোধ এবং তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা। তিনি সকল অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত বয়সী শিশুদের অবশ্যই নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে, যাতে কোনো শিশু এই গুরুত্বপূর্ণ সেবার বাইরে না থাকে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আইইউ) খাওয়ানো হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সকল অভিভাবককে গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *