এম মাসুদ রানা,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

১। ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
২। বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম খানসামা মহিলা ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। ধৃত আসামি কোচিং সেন্টার চালু করে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করতো। সেই সুবাদে ভিকটিম ধৃত আসামি কর্তৃক পরিচালিত কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তেন। প্রাইভেট পড়াকালীন সময়ে অত্র মামলার আসামি ভিকটিমকে প্রায়ই প্রেম ভালবাসার প্রস্তাব ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আসছিলো। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৩/০৩/২০২৪ তারিখ সকাল ০৮.৪৫ ঘটিকার সময় কোচিং শেষে অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে ভিকটিমকে আলাদাভাবে কথা বলার জন্য বসিয়ে রাখে। সকল ছাত্র-ছাত্রীগণ কোচিং সেন্টার হতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলে আসামি কোচিং সেন্টারের দরজা বন্ধ করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধৃত আসামি পূর্বেও ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। গত ১৮/০৪/২০২৬ তারিখ দুপুর ১২.০০ ঘটিকার সময় ধৃত আসামি ভিকটিমকে বিয়ে করতে পারবে না বলে জানালে ভিকটিম তার পরিবারকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করলে গত ২৬/০৪/২০২৬ তারিখে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে দিনাজপুর জেলা খানসামা থানায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় একটি
ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৪।
৩। ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
৪। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১/০৫/২০২৬ তারিখ রাত ১১.৩০ ঘটিকার সময় কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানাধীন পৌরসভার অর্ন্তগত ০৬ নং ওয়ার্ডের সরদার পাড়ার জনৈক মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩৫) এর বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ০১। মোঃ শাহিনুর ইসলাম শাহিন (২৭), পিতা- আবু সামাদ, সাং- দক্ষিণ গোবিন্দপুর (জামাল পাড়া), থানা- খানসামা, জেলা- দিনাজপুর’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
৫। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যাসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।