ধামরাইয়ে জমির আইলে মরিচ চাষ : বাড়তি আয়ে কৃষক আলী আজমের

মোস্তাফিজুর রহমান ,ধামরাই প্রতিনিধি

ধান ক্ষেতের জমির আইল সাধারণত অব্যবহৃত পড়ে থাকে। পাশ দিয়ে লোকজন যাতায়াত করে অনেক ক্ষেত্রেই। সেই জমির আইলকে কাজে লাগিয়ে ‘ পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ করে সুফল পাচ্ছেন কৃষক আলী আজম। এ যেন বাড়তি আয়ের নতুন পথ। উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় জমির আইলে মরিচ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ঔই কৃষক।

উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের শোলধন এলাকায় ‘ পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ করেছেন কৃষক আলী আজম।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সানেড়া ইউনিয়নের শোলধান এলাকায় কৃষক আলী আজম তার ২ একর বোরো ধানের জমির আইলে মরিচ চাষ করেন। ফলনও ভালো। অব্যবহৃত জমির আইলে মরিচ চাষ করে নতুন দিঘন্তের পথ বের করেন। তিনি পেয়েছেন উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তার এই উদ্যোগ দেখে এলাকার আরও অনেক কৃষক আলী আজমের মরিচ চাষ দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় আলী আজম এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেন বলে জানা যায় । ধানের পাশাপাশি ধানের জমির আইলে মরিচ চাষের ফলে জমির ফাঁকা জায়গাও সঠিক ব্যবহার হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে অতিরিক্ত আয়। মরিচ গাছে ফলনও এসেছে প্রচুর। এ পর্যন্ত কৃষক আলী আজম প্রায় ৪ হাজার টাকার মরিচ বিক্রিও করেছেন। মৌসুম শেষে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই।

কৃষক আলী আজম বলেন, আমার বাড়ির পাশে ২ একর ধানের জমি রয়েছে। জমির আইল আগে খালি থাকত। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে ঔই জমির আইলে ‘ পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ শুরু করি। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ৩/৪ হাজার টাকার মরিচ বিক্রিও করেছি। মরিচের মৌসুম শেষ হতে প্রায় ২০/২৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবো।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, আমি কৃষক আলী আজমকে প্রণোদনা হিসেবে মরিচের বীজ দেই। তিনি ২ একর ধানের জমির আইলে মরিচ চাষ শুরু করেন। আলী আজম প্রায় ৩ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেন। এছাড়াও নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আরো প্রায় ২০/৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন। এটি ‘ পার্টনার’ পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে। জমির আইলও আর অব্যবহৃত থাকবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আরিফুর রহমান বলেন, “‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ধানের জমির আইলে মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এতে একদিকে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় অপরদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিও ঘটে। যে কোন কৃষক বা বেকার যুবকরা এমন কাজে আগ্রহী হতে পারে। আমরা কৃষি অফিস থেকে সকল প্রকার সাপোর্ট দিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *