
দেশের ক্রিকেটের বরপুত্র সাকিব আল হাসানের ফেরা নিয়ে নাটকীয়তা যেন কাটছেই না। তবে সবশেষ পাওয়া তথ্যমতে, সাকিবের দেশে ফেরা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার সবুজ সংকেত পেলে আগামী পরশুই (মঙ্গলবার) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন এই টাইগার অলরাউন্ডার।
নিরাপত্তাই এখন মূল ফ্যাক্টর
সাকিব আল হাসান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সাকিবের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কিছু আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাকিবের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, “সাকিব খেলতে চান এবং দেশের মাটিতেই ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চান। তবে মাঠে আসা-যাওয়া এবং অবস্থানকালীন নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা চেয়েছেন।”
বিসিবির অবস্থান ও আইনি জটিলতা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ এর আগে জানিয়েছিলেন, বোর্ড কোনো একক খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ভার নিতে পারে না। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার সাথে সাকিবের ফেরা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিসিবির একটি উচ্চপদস্থ সূত্র বলছে, “সাকিব একজন আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে। আমরা সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখছি।”
ভক্ত ও সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সাকিবের ফেরার খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে আলোচনার ঝড়। ভক্তদের একটি বড় অংশ চাইছে তাদের প্রিয় তারকা মাঠ থেকেই বিদায় নিক। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কের কারণে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে তাকে স্বাগত জানাতে রাজী নন একটি অংশ। এই অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই সাকিব তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।
কেন এই ‘পরশু’ দিনটি গুরুত্বপূর্ণ?
সাকিবের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, মঙ্গলবারই সাকিবের ফেরার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা আছে। টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক কাজগুলো গোছানো। যদি আজ বা কালকের মধ্যে সরকারের কোনো বিভাগ থেকে মৌখিক বা লিখিত ‘সেফ প্যাসেজ’-এর আশ্বাস আসে, তবে তিনি বিমানে উঠবেন। অন্যথায়, এই সফর আবারো অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে।
উপসংহার
সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ার সবসময়ই বিতর্ক আর সাফল্যের সংমিশ্রণ। তবে ক্যারিয়ারের শেষ গোধূলিতে এসে নিজ দেশে ফিরতে পারাটা তার জন্য যেমন আবেগের, তেমনি বিসিবির জন্য এটি বড় এক চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, পরশু ভোরে ঢাকার আকাশে সাকিবের বিমান ডানা মেলে কি না।