শোকে স্তব্ধ ইরান, স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৫

২০২৬তেহরান, ইরান: গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে অবস্থিত ‘শাজারেহ তাইয়েবাহ’ গার্লস এলিমেন্টারি স্কুলে চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষত এখনো শুকায়নি। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই হামলার চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, যা পুরো বিশ্বকে নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে।ঘটনার বিস্তারিত:আজকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মিনাবের সেই প্রাথমিক স্কুলে মার্কিন টমাহক (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হলেও, আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন ছাত্র এবং ৪৭ জন স্কুলছাত্রী রয়েছে, যাদের বয়স মাত্র ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।হতাহতের তালিকা:শুধুমাত্র কোমলমতি শিশুরাই নয়, এই নিষ্ঠুর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। এছাড়া স্কুলে সন্তানদের নিতে আসা ৭ জন অভিভাবক, একজন বাস চালক এবং পাশের ক্লিনিকের একজন স্বাস্থ্যকর্মীও এই হামলার শিকার হয়েছেন।ভুল লক্ষ্যবস্তু নাকি পরিকল্পিত হামলা?মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এটি একটি “অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা”। পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করতে গিয়ে ভুলবশত ক্ষেপণাস্ত্রটি স্কুলে আঘাত হানে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে “পরিকল্পিত ও অমানবিক আক্রমণ” বলে অভিহিত করেছেন।আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:জাতিসংঘ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে নিন্দা জানিয়েছে। জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি তুলেছে।বর্তমান পরিস্থিতি:ইরানের বিভিন্ন শহরে আজ নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন ও শোক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তেহরানের শহীদ হামেদানি স্কুলসহ আরও বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। শোকাতুর পরিবারগুলোর এখন একটাই দাবি—বিশ্ব বিবেক যেন এই নিরপরাধ শিশুদের রক্তের সঠিক বিচার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *