
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিষফোঁড়া ‘সেশনজট’ নিরসনে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে গতিশীল করতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. এ এন এম এহসানুল হক মিলন। আজ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় তিনি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
পরীক্ষার সময়সূচি ও পরিকল্পনা:
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে। পরীক্ষাগুলো পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ২০২৭ সাল থেকে এই পরীক্ষার তারিখ আরও এগিয়ে আনা হবে যাতে শিক্ষাপঞ্জি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
সেশনজট ও ভর্তি জটিলতা নিরসন:
বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেকেও কোনো একটি বছর সেশনজটের কারণে নষ্ট হয়ে যাক। শিক্ষার্থীরা এইচএসসি শেষ করার সাথে সাথেই যাতে কোনো বিরতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে, সেজন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সমন্বয় করছি।”
তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি প্রক্রিয়া ও সেশন চালুর লক্ষ্যে শিক্ষাপঞ্জি নতুন করে সাজানো হচ্ছে। ভর্তি জটিলতার কারণে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের যে বিপুল সময় অপচয় হয়, তা রোধে ইউজিসি ও শিক্ষা বোর্ডগুলো এখন থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
গুজব রোধে কঠোর বার্তা:
পরীক্ষার সিলেবাস বা তারিখ পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন কোনো উসকানিতে কান না দিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করে। যেকোনো দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।”
শিক্ষাবিদগণ সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পথ সুগম হবে।